রাজধানী পল্লবীতে টোকেন বাণিজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে অটোরিকশা চালকরা। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর লালমাটিয়া টেম্পুস্ট্যান্ড থেকে কর্মসূচি শুরু হয়ে কালশী রোড পূরবী হল প্রদক্ষিণ করে কালশী চৌরাস্তায় এসে শেষ হয়। টোকেন বাণিজ্যের প্রতিবাদে মিছিলে কয়েক শ অটোরিকশা মালিক ও চালক অংশ নেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে অটোরিকশার টোকেন বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে অটোরিকশাচালক ও স্থানীয় আড্ডু গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।ওই ঘটনায় পল্লবী থানার এসআই মোবারক ছাড়াও অনন্ত আটজন শ্রমিক আহত হন। সেই ঘটনার প্রতিবাদে আজ শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বিঘ্নে রিকশা চালানোর শর্তে আগে এক মাসের জন্য কিউআর কোড সংবলিত কার্ড (টোকেন) নিতে দেড় হাজার টাকা গুনতে হতো অটোরিকশা মালিকদের। এখন তা বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করা হয়েছে।
এই টোকেন না থাকলে সড়কে ট্রাফিক পুলিশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যের রোষানলে পড়েন চালকরা। অভিযোগ উঠেছে, টোকেন নিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দফায় দফায় পল্লবীর কালশীতে অটোরিকশা মালিক-চালকদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে বৃহস্পতিবার বিকালে কালশী এলাকায় চাঁদাবাজদের হামলায় আহত হন পল্লবী থানার এসআই মোবারক আলী ও একজন আনসার সদস্য। কিন্তু রহস্যজনক কারণে আজ পর্যন্ত পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।
গ্রেপ্তারও করা হয়নি কোনো হামলাকারীকে।
আহত এসআই মোবারক আলী জানান, কালশী এলাকায় আড্ডুর নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক যুবক স্টাম্প, লাঠিসোঁটা নিয়ে অটোরিকশা আটকে ব্যাটারির লাইন কেটে দিচ্ছে এবং চালকদের মারধর করছে―এমন খবর পেয়ে টহল টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে হামলার শিকার হন তিনি।
হামলায় আহত বাউনিয়াবাদ এলাকার এক অটোরিকশার মালিক বলেন, গত ৩০ জানুয়ারি স্থানীয় যুবলীগ নেতা আড্ডুর নেতৃত্বে কয়েক শ যুবক পল্লবী থানা এলাকার বিভিন্ন গ্যারেজে গিয়ে মালিকদের হুমকি দেয়। তাদের কাছ থেকে এক মাসের জন্য দুই হাজার টাকার একটি টোকেন নেওয়া লাগবে। না হলে রিকশা চলতে দেবে না।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাস্তায় অটোরিকশা চলতে পারবে না স্লোগানে ভাড়া করা লোক দিয়ে মানববন্ধনের নাটক সাজায় তারা। বৃহস্পতিবার আড্ডুর নেতৃত্বে হামলায় আটজন নিরীহ চালক-মালিক আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লবী থানার ওসি অপূর্ব হাসান, জাতীয় দৈনিক আশ্রয় প্রতিদিন পত্রিকা ও ডিবিবি নিউজ টুয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘যারা বিক্ষোভ করেছে তাদের মধ্যে দু-একজনের সঙ্গে আলাপ করে জানতে পেরেছি তারা এখন টোকেন নিচ্ছেন না। তবে এমনিতে বিক্ষোভ করেছেন। এ ছাড়া বৃহস্পতিবারের ঘটনায় কোনো পক্ষ মামলা নিতে অভিযোগ করেনি, তাই মামলা হয়নি।’
এসআই আহতের ঘটনায় মামলা না হওয়ার প্রশ্নে ওসি বলেন, ‘ইটের একটা ঢিল পড়ে কিছুটা আহত হয়েছে। তবে কোন পক্ষ দিয়েছে সেটি এখনো শনাক্ত করা যায়নি। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ততটুকু নেওয়া হবে।