রাজধানীর ডেমরায় ছিনতাইয়ের উদ্দেশে অটোরিকশা চালক উষান মিয়া হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দুর্ধর্ষ অটোরিকশা ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো-১। মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব (৩৪), ২।মোঃ ফালান ভুইয়া ওরফে আকাশ (২৯), ৩।মোছাঃ আঁখি আক্তার(৩২), ৪।মোঃ নাজিম হোসেন (৪২) ও ৫।মোঃ আমান হোসেন (৩৭)।
ডেমরা থানা সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার উষান মিয়া (৪২) দীর্ঘদিন ধরে রাজারবাগ কালীবাড়ি এলাকায় অন্যের অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। গত ২১ জানুয়ারি ২০২৫ বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। তাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পরের দিন সকাল ১০:৪৫ ঘটিকায় ডিএনডি খালে (ঢাকা ওয়াসা খাল) উষান মিয়ার মৃতদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ভিকটিম উষান মিয়ার বড় ভাই মোঃ সুজা মিয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডেমরা থানায় একটা হত্যা মামলা রুজু করা হয়।
থানা সূত্রে আরো জানা যায়, তদন্তাধীন এই মামলায় গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মধ্যরাতে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর হতে মোঃ ফালান ভুইয়া ওরফে আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোরে মুগদা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মোঃ হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে জানা যায়, ঘটনার দিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি ২০২৫ বিকেলে হাবিবুর রহমান আরো কয়েকজনসহ ভিকটিম উষান মিয়ার অটোরিকশায় উঠে শাহবাগ থেকে ডেমরা এলাকায় আসে। সেখানে হাবিব কৌশলে উষান মিয়াকে ৪/৫টি ঘুমের ঔষধ খাইয়ে অচেতন করার চেষ্টা করে। কিন্তু উষান মিয়া অচেতন না হওয়ায় তাকে মেরে ফেলে মৃতদেহ ডিএনডি খালে ফেলে দেয় তারা। পরবর্তীতে অটোরিকশাটি ডেমরার পশ্চিম সানারপাড়ের মোঃ আমান হোসেনের নিকট ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে সেই টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয় তারা।
থানা সূত্রে আরো জানা যায়, এই চক্রের আরো তিন সদস্য মোছাঃ আঁখি আক্তার, মোঃ নাজিম হোসেন ও মোঃ আমান হোসেন গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ অটোরিকশা ছিনতাই ও ক্রয় করার অভিযোগে ডেমরা থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা গরিব, অসহায়, সহজ-সরল ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের ভাড়ার কথা বলে অটোরিকশায় ওঠে। পরবর্তীতে সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে তাদের ঘুমের ঔষধ খাইয়ে অজ্ঞান করে বা মলম লাগিয়ে বা মারধর করে অথবা চাপাতির ভয় দেখিয়ে বা ইলেকট্রিক শক দিয়ে এমনকি হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তা স্বল্পমূল্যে আমান হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
