চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। প্রতিনিয়ত বাড়ছে জনদুর্ভোগ; দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অতিবৃষ্টিজনিত পাহাড়ি ঢল এবং সাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারের চাপে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের খানখানাবাদ, প্রেমাশিয়া ও পূর্ব বড়ঘোনা এলাকায় মারাত্মক ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ উপচে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বন্যার পানিতে উপজেলার প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশ, পৌরসভাসহ অন্তত ১০টি ইউনিয়নের সংযোগ সড়ক এবং অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। বৈলছড়ী এলাকায় প্রধান সড়কের একটি অংশ পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগও আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে কৃষিজমি, পুকুর, মাছের ঘের ও বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাজার হাজার বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অনেক পরিবারের রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্থানীয় যুবসমাজের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ এবং জরুরি তথ্য দ্রুত প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে এলাকার বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অবিলম্বে বাঁশখালীকে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণা করে সরকারি ত্রাণ, পুনর্বাসন ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হোক। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
